কোরআন নাজিলের সময় আরব ভূখণ্ডে কয়েকটি মৌলিক ধর্ম প্রচলিত ছিল। সেগুলো হলো, ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্টধর্ম, মাজুসি ধর্ম, সাবিয়ি ধর্ম, হানিফি ধর্ম। হানিফি ধর্ম ছাড়া অন্য ধর্মগুলোর কথা কোরআন বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে বর্ণনা করেছে। যেমন নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, যারা ইহুদি হয়েছে এবং যারা খ্রিস্টান ও সাবিয়ি...। (সুরা বাকারা, আয়াত : ৬২) অন্য আয়াতে এসেছে, যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি, যারা সাবিয়ি, খ্রিস্টান ও অগ্নিপূজক এবং যারা মুশরিক হয়েছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেবেন। (সুরা হজ, আয়াত : ১৭) ইসলামপূর্ব আরবের ধর্ম সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো, ইহুদি ধর্ম পবিত্র কোরআনে ইহুদিদের নিন্দনীয় চারিত্রিক বিষয় উন্মোচন করা হয়েছে স্পষ্টভাবে, তবে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের নিন্দা করা হয়েছে শুধু এই কথা বলে, `আর ইহুদিরা বলে উজাইর আল্লাহর পুত্র।...
ইসলামপূর্ব আরবের ধর্ম-বিশ্বাস
মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

মুমিন যেভাবে আল্লাহর প্রিয় হয়
মুফতি আতাউর রহমান

আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের আন্তরিক প্রচষ্টোই আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালোবাসা। প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহও তাঁর বান্দাকে ভালোবাসবেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় আনবেন যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং যারা তাঁকে ভালোবাসবে। (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৫৪) মুমিনের জীবনে আল্লাহর ভালোবাসার গুরুত্ব শায়খ আবদুল্লাহ বিন বাজ (রহ.) এক ফাতাওয়ায় বলেছেন, মুমিনের জন্য হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে আল্লাহকে ভালোবাসা ওয়াজিব। যে ভালোবাসার সমকক্ষ আর কিছুই হবে না। সুতরাং আল্লাহই হবেন মুমিনের জীবনে সবচেয়ে প্রিয়। আর আল্লাহর প্রতি সত্য ভালোবাসার দাবি হলো, তাঁর আনুগত্য করা, পাপ পরিহার করা, আল্লাহর রাসুল ও নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের ভালোবাসা। আল্লাহর শত্রুদের অপছন্দ করা এবং আল্লাহর জন্য তাদের ঘৃণা করা। আল্লাহর...
মহানবী (সা.)-এর কাছে নারী সাহাবিদের বাইআত
আলেমা হাবিবা আক্তার

মহানবী (সা.) সাহাবিদের থেকে আনুগত্য ও যুদ্ধের বাইআত গ্রহণ করেছেন। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম বাইআত ছিল প্রথম আকাবার শপথ। নবুয়তের দশম বছর হজের সময় মদিনার ছয় ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে এবং মহানবী (সা.)-এর কাছে ঈমান ও আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করে। নবুয়তের ১৩তম বছর মদিনার ৭৫ জন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে এবং মহানবী (সা.)-এর হাতে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করে। তাদের মধ্যে ৭৩ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী ছিলেন। সম্ভবত এটাই ছিল ইসলামের ইতিহাসে নারীদের প্রথম বাইআত গ্রহণের ঘটনা। এরপর মহানবী (সা.)-এর হাতে একাধিকবার নারীরা ঈমান, ইসলাম ও আনুগত্যের বাইআত গ্রহণ করেছে। (আর রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ১৫৮ ও ১৬১) কোরআনে নারীদের বাইআত মক্কা বিজয়ের দিন মহানবী (সা.) সাফা পর্বতের ওপর অবস্থান করছিলেন। সেখানে তিনি প্রথমে পুরুষদের বাইআত গ্রহণ করলেন। এরপর নারীদের বাইআত গ্রহণ করলেন। নারীদের অবস্থান ছিল মহানবী...
রমজান-পরবর্তী মুমিনের করণীয়
জাকি মো. হামদান

রমজান শুধু একটি মাস নয়, বরং এটি সারা জীবনের পথচলার দিকনির্দেশনা। যা হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়, আত্মাকে প্রশিক্ষিত করে এবং ইবাদতের আলোয় আলোকিত করে তোলে। এক মাসের এই প্রশিক্ষণ মুমিনের জীবনে যে পরিবর্তন এনে দেয়, তা যেন সারাজীবনের জন্য একটি দিশারী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এখানে রমজান পরবর্তী কয়েকটি করণীয় সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো, ১. নেক কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা:মাহে রমজানের আগমন ঘটলে প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তির বায়ু প্রবাহিত হয়, যা প্রত্যেককে নেক আমলে উত্সাহিত করে। আর নেক আমলগুলি গুনাহের মাধ্যমে আস্তে আস্তে নষ্ট হতে থাকে। এজন্য রমজান পরবর্তী সময়ে গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। কোরআনের ভাষায়: তোমরা নিজেদের আমলকে সেই নারীর মতো করো না, যে সুতো মজবুতভাবে বুনতে থাকে আবার তা ছড়িয়ে ফেলে। (সুরা নাহল, আয়াত: ৯২)তাই রমজানের পরও আমাদের আমল অব্যাহত রাখা...
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত