আরবিতে হায়া অর্থ লজ্জা বা সংকোচ বোধ করা, ইতস্তত বোধ ইত্যাদি। সহজভাবে বলা যায়, লজ্জা হচ্ছে এক প্রকার মানবীয় অনুভূতি, যা মানুষকে মন্দ কাজে বাধা প্রদান করে এবং জনসম্মুখে সম্মানহানির ভয় সৃষ্টি করে। ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন, হায়া অর্থ শরম, বৃষ্টি, তরতাজা ইত্যাদি, যা হায়াত শব্দমূল থেকে উত্পন্ন। যার অর্থ হলো জীবন। আর হায়াত বললে দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনকে বুঝানো হয়। অতএব যার হায়া অর্থাৎ লজ্জা নেই, সে দুনিয়াতে মৃত এবং আখেরাতে হতভাগ্য। ...অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতা করার সময় তাকে লজ্জা করে, আখেরাতে সাক্ষাতকালে আল্লাহ তাকে শাস্তিদানে লজ্জাবোধ করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতায় লজ্জাবোধ করে না, আল্লাহ তাকে শাস্তিদানে লজ্জাবোধ করবেন না। (ইবনুল কাইয়িম, আল-জাওয়াবুল কাফী লিমান সাআলা আনিদ দাওয়াইশ শাফি, পৃষ্ঠা ৬৯) ইসলামে লজ্জা ও শালীনতার গুরুত্ব ইসলামের...
মুসলমানের যাপিত জীবনে শালীনতা
আলেমা হাবিবা আক্তার

মুমিন জীবনের প্রকৃত সাফল্য
মাইমুনা আক্তার

চোখের পলকে পার হয়ে গেল পবিত্র মাহে রমজান। যে পবিত্র মাসে মানুষ সাধ্যানুযায়ী নেক আমল করার চেষ্টা করে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় তূলণামূলক বেশি গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত করে। মুমিনের উচিত, গোটা বছর আল্লাহর ইবাদতকে গুরুত্ব দেওয়া, যতটা সম্ভব নেক আমলে আত্মনিয়োগের চেষ্টা করা। কারণ নেক আমলের তাওফিক লাভ করা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর মুমিন বান্দার প্রতি অন্যতম বড় নিয়ামত। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, বল, আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ার বদৌলতে (তা এসেছে), এজন্য তারা আনন্দিত হোক। তারা যা স্তুপীকৃত করছে তার চেয়ে তা (অর্থাত্ হিদায়াত ও রহমাতপূর্ণ কোরআন) উত্তম। (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৫৮) অর্থাত্ মানুষের কর্তব্য হলো আল্লাহ তাআলার রহমত ও অনুগ্রহকেই প্রকৃত আনন্দের বিষয় মনে করা এবং একমাত্র তাতেই আনন্দিত হওয়া দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ধন-সম্পদ, আরাম-আয়েশ ও মান-সম্ভ্রম কোনটাই প্রকৃতপক্ষে আনন্দের...
মেহমানের সমাদরে জান্নাত মেলে
মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

মেহমানের সমাদর করা মুমিনের ভূষণ। মুমিন মেহমানের আগমণে খুশি হয়। মেহমানকে সাদরে গ্রহণ করে। কেননা কেননা নবীজি (সা.) মেহমানকে সম্মান করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। নিম্নে মেহমানের আপ্যায়নের গুরুত্ব ও আদব সম্পর্কে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ। মেহমান আপ্যায়নের গুরুত্ব : ইসলামে মেহমানের আপ্যায়নের গুরুত্ব অপরীসীম। এটি কেবল সামাজিকতা নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় করলে এক ধরনের ইবাদতও বটে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়, অতিথিকে সমাদর করে, আর ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। (বুখারি, হাদিস: ৬০১৮) এই হাদিসে মেহমানের সমাদরকে ঈমানের দাবি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। যে ঈমান রাখে, তার উচিত, মেহমানকে সম্মান করা। তার আগমনে বিরক্ত না হওয়া। মেহমানের হক: প্রতিটি মুসলমানের ওপর তার কাছে আগত...
শাওয়াল মাসের রোজা রাখার নিয়ম
অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে ঈদুল ফিতর। আনন্দ, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে এ দিনটি। পবিত্র রমজান মাসব্যাপী যারা সিয়াম সাধনা করেছেন, শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখলেই মিলবে সারাবছর রোজা রাখার সওয়াব। এ ছয়টি রোজা রাখা মোস্তাহাব। শাওয়াল মাসের ফজিলত বিশুদ্ধ হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত। হজরত আবু আইয়ুব আনসারি রা. বলেন, রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ যে ব্যক্তি রমজান মাসের ফরজ রোজাগুলো রাখল, অতঃপর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারাবছর ধরেই রোজা রাখল। (মুসলিম ১১৬৪) শাওয়ালের রোজা রাখা ফরজ না। এটা নফল ইবাদত। তবে এর রয়েছে অগণিত সওয়াব। হাদিসে প্রিয় নবী সা. শাওয়াল মাসের প্রথমদিকে, মধ্যভাগে বা শেষাংশে নির্দিষ্ট করে রোজা রাখার কথা বলেননি। আবার রোজা ছয়টি লাগাতার রাখার নির্দেশনাও হাদিসে...
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পর্কিত খবর